ইসলাম দ্য কমপ্লিট ওয়ে অফ লাইফ


বর্তমান বিশ্বমানবতার চরম অধঃপতিত যুগ পেক্ষাপটে সমস্ত অকল্যাণ, মানুষের জন্য অহিতকর কর্মকাণ্ড ধর্মীয় বাতাবরণে সংঘটিত হওয়ার ফলে আপাতদৃষ্টিতে ধর্মই অধর্মের উৎস এই  ভ্রান্ত ধারণা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ।তবে ,সাধারণ দৃষ্টির উদ্ধে উঠে গভীর গবেষণা লব্ধ মনন নিয়ে দেখলে অনুমেয় হবে ,ধর্ম চিরন্তনভাবেই মানুষকে মহৎ হবার শিক্ষা দেয় ।যা কিছু কল্যাণকর ,মানবজাতির পক্ষে হিতকর তার প্রতিই ধর্মের চিরন্তন আহ্বান ।ইসলাম এর ব্যতিক্রম নয় ।বরং মানবকল্যাণকেই ইসলামে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে ।কল্যাণের ইসলামী প্রতিশব্দ 'ফালাহ',পবিত্র কোরআণে এই ফালাহ শব্দটি ৪০ বার উল্লেখ করা হয়েছে ।অনুরূপ  'ফাউজ '(শব্দটি ফালাহের প্রতিশব্দ )শব্দটি এসেছে ২৯ বার ।


ইসলাম কেবলমাত্র একটি ধর্ম নয় ।নয় কতকগুলি আচরণের সমষ্টি ।ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা ।মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র ইসলামের আওতাভুক্ত ।একইসঙ্গে প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য রয়েছে সঠিক দিকনির্দেশনা ।সাধারণ ভাষায় বললে ,ইসলাম সম্পূর্ণ জীবন পদ্ধতি ।যা নৈতিক মূল্যবোধ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিষ্টার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ।

'' হে বিশ্বাসীগণ ,সুবিচার প্রতিষ্ঠায় তোমরা কঠোরতা অবলম্বন কর ,আল্লাহর সাক্ষী স্বরূপ ,এমনকি এটা যদি তোমার নিজের ,বা তোমার পিতার কিম্বা তোমার আত্মীয় স্বজনেরও বিরুদ্ধে যায় এবং সুবিচারের ক্ষেত্রে ধনী ও গরীবের মধ্যেও কোন পার্থক্য করবে না ,আল্লাহ উভয়েরই যোগ্যতর অভিভাবক ।প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না ,ন্যায়ের পথ পরিত্যাগ করো না বা বিচ্যুত হয়ো না ।এবং যদি সুবিচারকে বিকৃত কর কিম্বা সুবিচার প্রদর্শনে অস্বীকৃত হও ,তা হলে মনে রেখ তুমি যা কিছু করছ আল্লাহ সবকিছুই দেখছেন ।''(সূরা আন নিসা :১৩৫)

ইসলামী জীবনব্যবস্থার রয়েছে শাশ্বত সোর্স অব নলেজ ।তা হল আল কুরআন ।

'নিশ্চয়ই এ কুরআন পথ দেখায় সেই (জীবন পদ্ধতির) দিকে ,যা সব চাইতে সঠিক ,সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ '(আল কুরআন ১৪:১)
'আল কুরআন 'এমন এক ঐশী গ্রন্থ যা মানবজাতির সমুদয় চিন্তা - চেতনা,সভ্যতা- সংস্কৃতি,নীতি - নৈতিকতা ,মূল্যবোধ - অধ:গতি ,রাজনীতি -অর্থনীতি -সমাজনীতি ,এককথায় মানবজীবনের যাপন পদ্ধতির উপর বিপ্লবাত্বক বিস্ময়কর সর্বব্যাপক ও সর্বাত্বক এক প্রভাব বিস্তার করেছে ।যা মানবজীবনের চিরন্তন পাথেয় ।


ইসলামী আদর্শে মূল ভিত্তি প্রস্তর হল তাওহীদ ।তাওহীদ শব্দের অর্থ ,আল্লাহর একত্বের প্রতি পূর্ণবিশ্বাস ।সমস্ত মানুষ এক আল্লাহর সৃষ্টি ।ইসলামী দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান ।বর্ণবাদ ,জাতিভেদের কোন স্থান নেই ।মানুষ এক ,হোক সর্বহারা কিম্বা বুর্জোয়া ।সাদা কিম্বা কালো ,আর্য বা অনার্য ,উন্নত সভ্যতার প্রতিনিধি কিম্বা অনুন্নত সভ্যতার প্রতিভূ সকলে সমমর্যাদার অধিকারী ।মানুষকে তাঁর অর্থ ,সম্পদ বা শক্তির জন্য নয় ,মানুষকে সন্মান করতে হবে মানুষ হিসাবে । মানবতার সন্মান ,সাম্যনীতি ,বর্ণ- জাতিভেদ - গোত্র ও অঞ্চলভিত্তিক পার্থক্যের বিলোপ সাধন ইসলামী আদর্শের মূল লক্ষ্য ।

প্রখ্যাত হিন্দু চিন্তাবিদ স্যার সি .পি .রামস্বামী আয়ার ইসলাম সম্পর্কে বলতে গিয়ে লিখেছেন -
''ইসলাম কিসের দাবি করে ?আজকের পৃথিবীর সত্যিকারভাবে সক্রিয় গণতান্ত্রিক ধর্মব্যবস্থা হিসাবে আমি ইসলামকে শ্রদ্ধা করি ।শুধু আমি নয় ,প্রতিটি চিন্তাশীল ব্যক্তি এ সত্যের স্বীকৃতি দেবেন ।''(Eastern Times ,22nd December,1944)


ইসলাম শুধু সাম্য ও একত্বের কথা বলেনি ।মানুষের জীবনকে দেওয়া হয়েছে সুরক্ষার সর্বোত্তম প্রতিশ্রুতি ।নির্দিষ্ট কারণ ব্যতীত মানব পীড়ন ও হত্যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের (সূরা আল মায়েদা :৩২ )ঘোষণা -''হত্যা ও ফ্যাসাদ সৃষ্টির কারণ ছাড়া যে একজন মানুষকে হত্যা করে ,সে যেন গোটা মানব জাতিকেই হত্যা করে এবং এমতবস্থায় যে একজন মানুষের প্রাণ রক্ষা করে ,সে যেন গোটা মানব জাতিরই প্রাণ রক্ষা করে ।''

মানবজীবনকে সুরক্ষিত করতে প্রয়োজন সুবিচার ও আইনের শাসন ।ইসলামী দৃষ্টিতে  সকলের জন্য ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে ।বিচারকার্যে কোনরূপ পার্থক্য বা পক্ষপাতিত্বের অবকাশ থাকবে না ।আইনের শাসন ও সুবিচার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং সবকিছুর উপর তার অবস্থান ।মহাগ্রন্থ আল কোরআণে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে -
''যখন তুমি মানুষের মধ্যে বিচার করতে বস ,তখন সুবিচার কর ।''(সূরা আল নিসা :৫৮)
এটায় ইসলামী শিক্ষা ,যা ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসীদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্টা করতে উদ্বুদ্ধ করে ।এই সুবিচারবোধের জন্যই ইসলাম খুব অল্পদিনেই এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয় ।অমুসলিমদের কাছেও হয়ে উঠে  শ্রদ্ধাহ ।T.W Arnold এর Preaching of Islam গ্রন্থে এর প্রমাণ রয়েছে ।তিনি লিখেছেন ,এমিসা নগরীর অধিবাসীরা (স্বগোত্তিয় খৃষ্টান )গ্রীকদের অবিচার ও অত্যাচারের চেয়ে মুসলমানদের শাসন ও সুবিচারকে বেশি পছন্দ করত।


এখন ,অর্থাৎ এই একবিংশ শতাব্দীর চূড়ান্ত উন্নয়নের সময় ও পেক্ষাপটে ইসলামী আদর্শগুলো সমাজজীবনে শান্তি ও সহবস্থানের পাথেয় হতে পারে - যদি আমরা ইসলামী আদর্শ অনুশাসন অনুসারে জীবন অতিবাহিত করতে পারি ।দুঃখের বিষয় ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হচ্ছি আমরা দিনকে দিন ।অমুসলিম ভাইদের সম্মুখে ইসলামের কল্যাণকর নীতিগত আদর্শ আমরা তুলে ধরতে পারছি না ।ফলে বর্তমান সময়ে ইসলামের প্রচারের তুলনায় অপপ্রচার হচ্ছে বেশি ।ইসলামের নীতি আদর্শ বিশ্ববাসীর সামনে জোরাল ভাবে উপস্থাপন করতে হবে ।এ দায় পুরোটায় আমাদের ।


লেখক  পরিচিতি 
আরিফুল ইসলাম সাহাজি 

এম .এ( বাংলা )প্রথম শ্রেনী , বি .এড 
রায়পুর , চাকলা , দেগঙ্গা , উত্তর ২৪ পরগনা
Blogger দ্বারা পরিচালিত.