চরমোনাই মুরিদ ও ভোট;খোলামেলা আলোচনা।।শিপার মাহমুদ (জুম্মান)


অনেক জনমনে প্রশ্ন চরমোনাই পীরের এত মুরিদ কিন্তু ওদের ভোটের সংখ্যা এত কম কেন?আবার অনকে ডিরেক্ট বলে-ওরা নিজেদের ভোট'ই হাত পাখায় দেননা।

আসলে ওদের ধারণা ও মন্তব্যটা কতটুকু গ্রহণযোগ্য?আসুন একটু দেখে নেই-

এসব কথা যারা বলে তাঁদের পীর সাহেব চরমোনাইয়ের মুরিদ ও ভোট সম্পর্ক ধারণা একদম কম।একটা কথা স্মরণ রাখার দরকার-যে ইসলামী আন্দোলনের কর্মী, ভোটার ও মুরিদ এরা কারা?

সাধারন পাবলিক মনে করে যারা চরমোনাই মাঠে যায় ওরা সবাই চরমোনাই পীরের মুরিদ ও হাতপাখা ভোটার।কথাটা কতটুকু যৌক্তিকতা বহন করে?আমি এটাকে একদমই কোন যুক্তিক কথা বলে মনে করিনা,কেননা যারা চরমোনাই মাঠে যায় তাঁরা তো মুজাহিদ কমিটি কর্তৃক আয়োজিত তিনদিনের মাহফিলে যায়।মাহফিলে দেখা যায় অনেক আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জাতীয়পার্টি সহ বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন দলের লোকের উপস্থিতি থাকে।ওখানে গেলেই কি কেউ পীর সাহেব হুজুরের মুরিদ কিংবা ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হয়ে গেল?যে হাতপাখায় ভোট দেবে;ব্যাপারটা এমন নই।

চরমোনাই মাহফিল এটা মুজাহিদ কমিটি কর্তৃক হয়ে থাকে,যেটা সম্পুর্ণ অরাজনৈতিক একটা সংগঠন।কিন্তু ওখানে যাওয়ার পর অনেকের মাঝে একধরনের পরিবর্তন দেখা যায়-আবার অনেকেই যেভাবে যায় সেভাবেই ফিরে।কোন পরিবর্তন নাই।অতএব মাহফিলে লোক দেখে ভোটের হিসেব করার কোন সুযোগও নাই।

আরেকটি বিষয় হলো ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখেছি-২০০৮ সালের পর থেকে কোন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহন করতে দেখিনি।উল্লেখ্য ২০১৪ সালে যদিও একটা নির্বাচন হয়েছিল সেটাতে ইসলামী আন্দোলনের অংশগ্রহন ছিলনা।আজ দীর্ঘ ১০ বছর পর সব দলের অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।যেখানে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে (৩০০) আসনে প্রার্থী দিয়েছে।যার আগে কখনো এভাবে (তিনশো) আসনে প্রার্থী দেয়া সম্ভব হয়নি।তো কোন যুক্তি ও বিবেক দিয়ে বলি যে চরমোনাই মুরিদ ওরাতো নিজেরাই ভোট দেইনা!যেখানে নির্বাচনেই ওদের সেরকম কোন অংশগ্রহন ছিলনা-তো ভোট দেব কিভাবে?

আপনি যদি ভোটের হিসেব দেখতে চান-তাহলে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা সিটি নির্বাচনের ফলাফল দেখুন-একমাত্র সিলেট বিভাগ ব্যতীত প্রত্যেকটা বিভাগে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শক্তি হিসেবে অবস্থান করেছে-যা মিডিয়াকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হাতপাখার কয়েকজন প্রার্থী জয়লাভ ও করেছেন।তাহলে আপনি আমি কিভাবে বলব যে ওরা নিজেদের ভোট ই দেইনা।যদি ভোট না দিতেন-তাহলে ইসলামী আন্দোলনের এতদূর আসা কি সম্ভব হত?

আমি মনে করি,যারা প্রকৃত চরমোনাই পীরের মুরিদ-তাঁরাই ইসলামী আন্দোলনের কর্মী ও হাতপাখার ভোটার।যারা মাঠে যায় আর আসে আর দুনিয়াদারি নেতার পিছনে ঘুরে-এরা চরমোনাই পীরের মুরিদ না।সুতরাং এদের দিয়ে ভোটের সংখ্যা হিসেব করাটা অযুক্তিক।

মনে রাখার দরকার ভোট একটা আমানত,খেয়ানত করা যাবেনা।এখন এটা আপনি/আমি কাকে দিব আমরা'ই ভালো বুঝার কথা।

অতএব লোকের কথা নয়-নিজের বিবেককে জাগ্রত করুন।চক্ষু খোলার চেষ্টা করুন।আপনি ভোট দিবেন-এখানে মুরিদের খোঁজ করার প্রয়োজন নেই।যদি মনে করেন ইসলামের পক্ষে ভোট দেয়ার প্রয়োজন তো আপনি নিজেই সাক্ষ্য হোন।নিজের বিবেককে সাক্ষ্য রাখুন।তবেই এদেশে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

লেখক,তরুণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট।   

Blogger দ্বারা পরিচালিত.