আল কুরআনের গল্প ।। হযরত সুলাইমান আঃ ও রাণী বিলকিস


আল্লাহর নবী হজরত সুলাইমান ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ন বাদশা । তিনি ঈর্ষনীয় এক ঐশ্বরিক শক্তির অধিকারী ছিলেন । জীবজন্তু , পশুপাখি , দানব , জ্বীনরাও তাঁর প্রভুত্ব মান্য করে চলত । নবী সুলাইমান তাঁদের ভাষা বুঝতে পারতেন । কি করলে তাঁদের ভাল হয় সে বিষয়ে তিনি সব সময় সচেষ্ট থাকতেন । একবার পশুপাখিদের নিয়ে তিনি একটা সভা করছিলেন ।  আমন্ত্রিত সবাই ।  বাদশা সুলাইমান সবার খোঁজ খবর নিলেন । হুদহুদ নামক পাখিদের কোন প্রতিনিধি সভায়  না দেখতে পেয়ে তিনি রাগান্বিত হলেন । জারি করলেন শোকজ নোটিশ । জবাব মনঃপূত না হলে হতে পারে কঠোর শাস্তি । খবর গেল হুদহুদ পাখিদের কাছে । হন্তদন্ত হয়ে ছুটল হুদহুদ প্রতিনিধি । আরজ করল, বাদশা নামদার ! আমি একটা বিষয় অবগত আছি , যা আপনি জানেন না । শুনুন । সাবা নামের একটা জায়গা আছে । যার শাসক এক নারী । নাম বিলকিস বিনতে শারাহিল । ঐশ্বর্যমন্ডিত সে রাজ্য । রয়েছে বিশাল সিংহাসন । যার আশিহাত দৈঘ্য, চল্লিশহাত প্রস্থ আর ত্রিশহাত উচ্চতা । তবে দুঃখের বিষয় , তাঁরা মুশরিক । এক আল্লাহ ব্যতিরেকে প্রকৃতির পূজায় রত । আমার প্রশ্ন , তাঁরা কেন আল্লাহর এবাদত করে না ! মহান আল্লাহ তো সবকিছুর খবর রাখেন ! তাহলে তাঁদের এমন সমৃদ্ধির কারন কি ? 
বাদশা সুলাইমান শান্ত আর বিচক্ষনতার সাথে  শুনলেন সব । বললেন , যাও তুমি যদি সত্যবাদী হও , তাহলে আমার পত্রখানি তাঁদের নিকট নিয়ে যাও । 

হুদহুদ পাখি চলে গেল । রাণী বিলকিস সভাসদ সহ তাঁর বিশাল সিংহাসনে উপবিষ্ট হয়ে আছেন । হুদ পাখি তাঁর নিকট বাদশা সুলাইমানের পত্রখানি দিলেন । রাণী বিলকিস চিঠিখানি খুললেন । তখন রাজদরবারে উপস্থিত রয়েছেন ৩১২ জন সভাসদ । বাদশা সুলাইমান এক আল্লাহ প্রতি ঈমান আনতে রাণী বিলকিসকে অনুরোধ করে পত্রখানি দিয়েছেন । বুদ্ধিমতী বিলকিস সভাসদদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে বাদশা সুলাইমানকে পরীক্ষা করবার জন্য এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করলেন । কিছু উপঢৌকন পাঠালেন বাদশা সুলাইমানের দরবারে । ভাবলেন বাদশা যদি দুনিয়াদার হন , তাহলে সানন্দে তা গ্রহন করবেন । আর যদি ঈমানদার হন তাহলে তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবেন । 

উপহার দেখে বাদশা সুলাইমান খুশি হওয়া দূর , রাগান্বিত  হলেন । আল্লাহ আমাকে যে ঐশ্বর্য দিয়েছেন তাতে কারও করুণা তাঁর প্রয়োজন নেই , এই বলে ফেরত পাঠালেন উপহার সামগ্রী । যে ভঙ্গিমায় বাদশা ফেরত পাঠালেন ,  তাতে সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়ল । সুলাইমান সভাসদদের উপলক্ষ করে বললেন , কে আছো ! রাণীর আত্মসমর্পনের পূর্বে সিংহাসন এনে দিতে হবে । দরবারে বাদশার অনুগত এক জ্বীন ছিল । সে বলল , অনুমতি দিন । আপনার ঘুম থেকে ওঠার পূর্বেই আমি এনে দেবো । অপর একজন কামেল ঈমানদার মানুষ ছিলেন । তিনি বললেন , বাদশা নামদার । অনুমতি দিন । আপনার চোখের পালক পড়বার পূর্বেই এনে দিচ্ছি । সত্যই চোখের পলক পড়তেই তিনি দেখলেন রাণী বিলকিসের সিংহাসন । শোকর আল্লাহ ।  রাণী বিলকিস ছিলেন অবিশ্বাসী । বাদশা সুলাইমান তাঁকে এক আল্লাহর উপর ঈমান আনতে অনুরোধ করলেন । স্বাগত জানালেন নিজ প্রাসাদে । রাণী বুঝতে পারলেন তিনি বন্দি । তবুও বন্দির সঙ্গে বাদশা সুলাইমানের মহৎ ব্যবহারে তিনি বিমুগ্ধ হলেন । যে  আদর্শ এমন মহৎ মানুষ তৈরি হন  , তাই একমাত্র মুক্তির পথ । দ্বিধাহীন চিত্তে উচ্চারন করলেন রাণী বিলকিস , হে প্রভু , আমি নিজের উপর জুলুম করেছি । শিরক করেছি । আজ থেকে আমি বাদশা সুলাইমানের রবের প্রতি ঈমান আনলাম । তুমি আমার পূর্বের গোনাহ ক্ষমা করে দাও । ত্যাগ করলেন রাজ্যপাঠ , বিলাসবহুল জীবন । শুরু হলো এক জান্নাতি নারীর পথচলা । 

(সূরা , সাবা অবলম্বনে )



- লেখক 
আরিফুল ইসলাম সাহাজি
রায়পুর , চাকলা , দেগঙ্গা , উত্তর ২৪ পরগনা । 
Blogger দ্বারা পরিচালিত.