ক্লাসের প্রথম দিন ।। মোঃ আল মামুন রাসেল


প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সূত্রপাত ঘটে একটি দিনের,আবার সূর্যাস্তের সাথে সাথে দিনটিও রাতের হয়ে যায়।এভাবে রাত দিনের পালাবদলে তা অতীত হয়ে যায়,তবে রেখে যায় কিছু স্মৃতি,সুখ,দুঃখ,হাসি,কান্না,ইত্যাদি মিশ্রিত হয়ে অতিবাহিত হয় আমাদের দৈনন্দিন জীবন।

আজ ৩-ই জুলাই রোজ মঙ্গলবার। আজ আমাদের ক্লাসের প্রথম দিন,গত বছর হেদায়াতুন্নাহু জামাতের বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এ বছর ভর্তি হয়েছি জামাতে কাফিয়ায়।মাদ্রাসা একটায় তবে ক্লাস রুম ভিন্ন।সবকিছুতেই যেন নতুনত্বের ছাপ।সবার মুখে হাসি,মনে আনন্দ,নতুন নতুন পোষাক,নতুন কিতাবাদী,আহা কি আনন্দ!বলা বাহুল্য!!আমাদের ১ম ক্লাসের উস্তাদ হচ্ছেন,জামিয়ার সহকারী দারুল ইকামা মুহতারাম মাওঃ মাহবুবুর রহমান সাহব দাঃবাঃ ক্লাসে এসে প্রথমে উপস্থিতি সংখ্যা জেনে,সকলের পরিচয় জিঙ্গাসাবাদ সহ কুশল বিনিময় করেন।উনি আমাদের (দুরুসূল বালাগাত)কিতাব এবং সহিবুল মুসান্নিফ অর্থ্যাৎ লেখক পরিচিতি পড়ান।তার পর ২য় ক্লাসের উস্তাদ হচ্ছেন,জামি'আর নাযেমে দারুল ইকামা মাওঃমুখলেসুর রহমান সাহেব দাঃবাঃ তালীমুল মুতাআল্লীমকিতাবের উনার পর ৩য় ঘন্টায় আসেন মাওঃ জামিল আহমদ সাহেব দাঃবাঃ তিনি আমাদেরক্লাসের মুল কিতাব (কাফিয়া এবং শরহে জামী)পড়ান।এমনিভাবে আমাদের মোট সাতটি ক্লাসের সমাপ্তি ঘটে।তারপর আমরা ছাত্রাবাসে এসে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে গোসল,নামায,ও খাবার পর্ব শেষ করে সব সহপাঠিরা বসে ক্লাসের পড়াগুলো তাকরার (পরষ্পর পুর্নালোচনা)করি।তাকরার করতে করতে এক সময়ে চলে আসে আসরের সময়।আনন্দ চিত্তে আল্লাহর মথন হুকুম আসরের নামাজ জামাতের সাথে মসজিদে আদাই করি।নামায আদায়ের পর বন্ধুদের নিয়ে সারাদিনে ক্লান্তি দূর করতে ছাত্রাবাসের অদুরে একটি সিষ্টেম উদ্যানে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।যার নাম উত্তরা প্রবর্তন সিটি যার নিদারূন পরিবেশ দর্শকের নজর কাড়ে।সুপ্রসস্ত পথ তার দুধারে পুষ্প কানন।উপরে রাতের আকাশে জ্বালাবার তরে রয়েছে ল্যাম্প।একটু পরপর রয়েছে নজরকাড়া বৈঠক খানা,সব মিলিয়ে অপরুপ।আমরা ছিলাম ,আমীন,ফরিদ,রাকিব,নাজমুল,এমদাদ,আরীফ আরো অনেক বন্ধুরা।সেখানে আমরা পরষ্পরে হাটতে হাটতে কথার মালা গাঁথতে গাঁথতে এক সময় পশ্চিমাকাশে সূর্য্যটা হলুদবর্ণ থেকে রক্ত জবার মত সাড় লালবর্ণ ধারণ করলো,যেন লাল বিত্ত।তার চারিধারে গোলাপী মেঘের বেষ্টণী।আকাশের আবীরতাকে ফুটিয়ে তুলেছে।এমনি মুহুর্তে সুর্য্যটা অস্ত যাওয়ার উপক্রম হলো,তখন আমরা এদিনের মত ছাত্রাবাসে ফিরে এলাম।

এভাবে চলছিল আমার এবং আমাদের আনন্দের ক্লাস ও লিখা পড়া।
তব!সে আনন্দ আর আমার সকলের মত ঠিক রইলো না।তার ঠিক ৪/৫ দিন পর আমাকে গ্রাস করে ফেলল প্রবল অসুস্থতা।তার দরুণ আমাকে প্রায় ১৫দিন বাসা আর হাসপাতালের ব্যাডে শুয়ে দিন পার করতে হয়েছিল।তারপর রবের অপার করুনায় পূর্ণ সুস্থ হয়ে পূণরায় মাদ্রাসায় ইলম অর্জনের জন্য উপস্থিত হলাম।
আবার চলতে লাগলো আমাদের পূর্বের সময়,এভাবেই যেন আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইলম অর্জন করতে পারি~আমীন।
Blogger দ্বারা পরিচালিত.