ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হবিগঞ্জ জেলার বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান



প্রেস বিজ্ঞপ্তি-

সুষ্ঠ-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হবিগঞ্জ জেলা শাখার বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান।
রবিবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০ ঘটিকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হবিগঞ্জ জেলা কার্যলয়ের সামনে থেকে দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত, কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবীতে এবং ঘোষিত ১০ দফা দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ  হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি ও হবিগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মুহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল-এর সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি সামসুল হুদার পরিচালনায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বলেন- স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও বাংলার মানুষকে ভোটের অধিকারের জন্যে আন্দোলন করতে হবে, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবীতে রাজপথে নামতে হবে, একথা ভাবতেও আমাদের লজ্জা হয়। দেশের সাধারণ নাগরিকদের কোন অধিকার নেই, কোন সম্মান নেই, সকল অধিকার ভোগ করছে ক্ষমতাসীন এবং তাদের দোসররা,  অথচ স্বাধীনতা উত্তর দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল, স্বাধীন দেশে তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। স্বাধীন নাগরিক হিসেবে মর্যাদা পাবে, সম্মান পাবে,  বাক স্বাধীনতা পাবে, ন্যায়বিচার পাবে। জান-মাল, ইজ্জত-আবরু এবং জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। অর্থনৈতিক সাম্য ও রুটি রুজির নিশ্চয়তা পাবে। একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, স্বাধীনতা পরবর্তী যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা সবাই জনগণের স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করেছে।সবাই জনগণের সাথে অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে।গণ-মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।দেশ শাসনের নামে জনগণকে জিম্মি করে রেখেছে।জনগণের সকল মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। জনগণের সম্পদ লুন্ঠন করেছে।গণতন্ত্রের নামে সর্বত্র দলীয়করণ এবং স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। গুম ও খুনের রাজত্ব কায়েম করেছে। দুর্নীতি, লুটপাট এবং সুদ ও ঘুষকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। শাসক শ্রেণীর এহেন কর্মকান্ডের ফলে স্বাধীনতা আজ অর্থহীন হয়ে পড়েছে। গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে। দেশ আর এভাবে চলতে পারে না। বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচিত এবং অনির্বাচিত দুই ধরনের স্বৈরাচারই দেখেছে। ঘুরে ফিরে সেসব স্বৈরাচারী শক্তিকে আবার মতায় বসালে দেশে অশান্তি আরো বাড়বে। জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পাবে না। জনগণের অধিকার ফিরে পেতে হলে, দেশকে ভালো করতে হলে, দুর্নীতি, দুঃশাসনমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে, ভালো নেতার অধীনে ভালো নীতির বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে।
কিন্তু বিগত দিনে দেশ শাসনের ভালো নীতি ও পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়নি। ভালো নেতা নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী করা হয়নি। মতাসীনরা নিজেদের স্বার্থে বারবার সংবিধানে পরিবর্তন ঘটিয়েছে। নিজেদের বানানো সংবিধানের দোহাই দিয়ে বারবার কৃত্রিমভাবে জাতীয় সংকট সৃষ্টি করেছে। অনৈতিকভাবে ক্ষমতা টিকে থাকার জন্যে সংবিধানকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন-ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল মোছাব্বির রনু,জেলা সেক্রেটারি সামছুল আলম সাজু।ইশা ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলা সাবেক সভাপতি মুফতি বশির আহমদ ও মুনানেম খন্দকার।ইসলামী যুব আন্দোলন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আসাদুজ্জামান লিটন,ইশা ছাত্র আন্দোলন জেলা সভাপতি কে এম তাজুল ইসলাম,সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম সোহাগ ও জেলা সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহা. আসাদুজ্জামান সহ বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তরা আরো বলেন-আওয়ামীলীগ নবম জাতীয় সংসদে একতরফাভাবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করার পর থেকেই রাজনৈতিক সংকটে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তারা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে ফেলেছে। বিগত ১০ বছরে দেশে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতেও জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। ক্ষমতাসীনরা তাদের দলীয় লোকদেরকে নির্বাচিত করার জন্যে এহেন কাজ নেই যা করেনি। নির্লজ্জভাবে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন কেউই নিরপে ভূমিকা পালন করেনি। ফলে নির্বাচনকে মানুষ এখন প্রহসন এবং তামাশা মনে করে। আগামীতে মানুষ আর তামাশা ও প্রহসনের নির্বাচন দেখতে চায় না। বর্তমান বিতর্কিত সরকারের মতার মেয়াদ প্রায় শেষ প্রান্তে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকারের পরিবর্তন হতে হলে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন লাগবে। আমরা চাই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মতার পালা বদল হোক।
কিন্তু আগামী জাতীয় নির্বাচন কিভাবে হবে, তা এখনো পরিস্কার হয়নি। ক্ষমতাসীনরা এবারও জাতীয় সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করতে চায়। জাতীয় সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হলে, সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য হবে না বরং আবারও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের মতো নির্বাচনের নামে প্রহসন হবে।যে নির্বাচন দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বর্জন করেছিল। জনগণও ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যায়নি। বিনা ভোটে ১৫৪জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গেছেন। অতএব বর্তমান সংসদের কোন নৈতিক বৈধতা নেই। এই অবৈধ সংসদ বহাল রেখে কোন নির্বাচন দেশবাসী মেনে নেবে না। এতএব আমরা বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে সকলের অংশগ্রহনে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান ইসি সরকারের আজ্ঞাবহ কমিশনে পরিণত হয়েছে। তাই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এখন থেকেই শান্তির প্রতিক হাতপাখা নিয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যেতে হবে। প্রত্যেকটা ভোটারের কাছে ইসলামী আন্দোলনের ও হাতপাখার দাওয়াত পৌছে দিতে হবে।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা প্রশাসকের বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.